মাননীয় স্পিকাার! মহান জাতীয় সংসদে পুরুষদের জন্যও ৫০টি সংরক্ষিত আসনের প্রস্তাব করছি; এমনটাই প্রস্তাব আইআইইউসি’র সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ এমদাদ হোসেন।
প্রস্তাবনা গুলো হলোঃ
১) যেহেতু দেশে নারী এবং পুরুষের অধিকার সমান; সংবিধানের ২৮(২) নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন।
২) দেশে নারী-পুরুষের অনুপাত এখন প্রায় সমতার কাছাকাছি (১:১), যেখানে নারী সামান্য এগিয়ে রয়েছে।
৩) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০টি আসনে নারী-পুরুষ উভয় পার্থী হওয়ার সমান অধিকার রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারী অধিকার রক্ষায় জাতীয় সংসদে নির্বাচনের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করে, তাদের ‘অবলা’ বা মনোনীত প্রার্থী হিসেবে না রেখে সরাসরি জনপ্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা বলেছেন।
৪) শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকাংশে বিশেষ করে এসএসসি, এইচএসসি পাশের হার এবং উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রও কোথাও কোথাও পুরুষের তুলনায় নারীরা এগিয়ে রয়েছে, মনে হচ্ছে কয়দিন পরেই পুরুষরাই অনগ্রসর গুষ্টি হিসেবে পরিগণিত হতে পারে। [২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ছাত্রীদের পাসের হার ছিল ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ছিল ৬৫.৮৮ শতাংশ। এইচএসসি ২০২৫-এ মেয়েদের পাসের হার ৬২.৯৭ শতাংশ, যেখানে ছেলেদের পাসের হার ৫৪.৬০ শতাংশ। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৩% ছাত্রী] ।
৫)। এছাড়াও দেশে অনেক সৎ যোগ্য ও স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যারা দেশ এবং জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রাখতে পারেন কিন্তু স্থানীয় এলাকাবাসী হয়তো ওনাদেরকে তেমন চেনেন না, বা তারা দলীল গতভাবে ততটা সক্রিয় নন। কিন্তু সংরক্ষিত আসনে যদি উনাদেরকে নির্বাচিত করা হয় তাহলে তারা জাতি গঠনে সর্বোচ্চ টুকু উজাড় করে দিবেন।
সুতরাং নারীরা এখন আর অনগ্রসর নয়, তাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজন নেই। যদি নারীদের জন্য সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত আসন রাখতে হয় তাহলে অবশ্যই পুরুষদের জন্যও ৫০টি সংরক্ষিত আসন রাখতে হবে। আর যদি নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০ টি আসন রাখতে হয় তাহলে নারীরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০০টি আসনে প্রার্থী হতে পারবেন না। যেহেতু নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন আছে তাহলে তারা কেন সরাসরি নির্বাচনে গ্রহণ করবেন, এটি তো পুরুষদের অধিকারের প্রতি একটি সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ।